কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত, বিজিবির প্রতিবাদ

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত, বিজিবির প্রতিবাদ

অপরাধ ডেস্ক

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়ন সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে তারা মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (৯ আগস্ট) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে মাগুরুলি নামক এলাকায় এ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ মালামাল চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মুড়ইছড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, ভোরে একদল সীমান্ত অতিক্রমকারী বিএসএফের টহল দলের মুখোমুখি হলে সীমান্তরক্ষীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার থাকা সত্ত্বেও একদল ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। সে সময় ভারতের মাগুরুলি সীমান্তে দায়িত্বরত বিএসএফ জওয়ানরা তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তারা মিয়ার মৃত্যু হয়। বিজিবি কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত যুবকের বিরুদ্ধে পূর্বেও একটি চোরাচালান সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন ছিল।

ঘটনার পরপরই সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত প্রোটোকল অনুযায়ী ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং আনুষ্ঠানিক ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এ ধরনের বিএসএফের গুলিবর্ষণে প্রাণহানির ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের কূটনৈতিক ও সীমান্ত সংক্রান্ত বৈঠকে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি বারবার পুনর্ব্যক্ত করা সত্ত্বেও এ জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে। সীমান্তবর্তী এলাকার অধিবাসীদের নিরাপত্তা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক প্রোটোকল কঠোরভাবে বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা পুনরায় সামনে এসেছে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি ঘটনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়টি তদারকি করছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ