যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর এটাই উপযুক্ত সময়: ইরানি প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর এটাই উপযুক্ত সময়: ইরানি প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত সংঘাত ও বিরোধের সমাধানে বর্তমান সময়কে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির পর ইরান বর্তমানে একটি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং সংহত অবস্থানে রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ এ শক্তির ওপর ভিত্তি করেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদাপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

তেহরানে অনুষ্ঠিত নিজের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপ্রধান মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের বর্তমান কৌশলগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাতের ধাক্কা সামলে ইরান বিশ্বমঞ্চে একজন বিজয়ী ও শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফলে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক উত্তেজনা নিরসনে কোনো দুর্বল অবস্থান থেকে নয়, বরং অভ্যন্তরীণ সংহতি ও সামর্থ্যের ভিত্তিতেই তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।

মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, কেবল সামরিক শক্তি প্রদর্শন বা যুদ্ধের মাধ্যমে যেকোনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। কূটনীতিই স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ। সেই লক্ষ্যে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিধানগুলোকে ভিত্তি ধরে তাঁর সরকার শান্তির অভিমুখে এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান বিশ্বব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক আইন ও নিজ জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া অতিরিক্ত কিছু দাবি করছে না। আলোচনার মাধ্যমে সেই অধিকার আদায় করা সম্ভব।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘদিনের গভীর রাজনৈতিক অবিশ্বাসের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিকভাবে তেহরানের দৃষ্টিতে ওয়াশিংটনের নীতি সর্বদা বৈরী ও আধিপত্যকামী। যুক্তরাষ্ট্রের বিষয়ে ইরানের বৈপ্লবিক নীতিগত অবস্থানের কোনো রূপান্তর ঘটেনি। তবে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতা ও তেহরানের সুদৃঢ় কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে সমঝোতার টেবিলে বসতে বাধ্য হয়েছে।

আলোচনা প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্ট ‘অবিশ্বাসের পরিবেশকে’ দায়ী করেন পেজেশকিয়ান। তিনি আহ্বান জানান, ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে তাদের বৈরী আচরণ ও নীতি ত্যাগ করে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও তোলেন তিনি। পেজেশকিয়ান জানান, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যৌথভাবে সম্মত হওয়া নৌপরিবহন পদ্ধতি অনুসরণ না করে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। ওমান ও ইরানের মধ্যে নির্ধারিত মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করার এ প্রচেষ্টাকে তেহরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

হরমুজ প্রণালির এই বিরোধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিকভাবে চুক্তিকৃত কাঠামোর অধীনেই যেকোনো মতভেদের অবসান ঘটাতে হবে। ইরান কোনো ধরনের অন্যায্য নতিস্বীকার বা শর্ত মেনে নেবে না। জাতীয় মর্যাদা, সম্মান এবং নিজস্ব ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ও আন্তর্জাতিক সংলাপ চালিয়ে যাবে তেহরান।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ