এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে অন্তর্ভূক্তি সংক্রান্ত আংশিক তথ্য প্রচারে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে অন্তর্ভূক্তি সংক্রান্ত আংশিক তথ্য প্রচারে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও একটি খসড়া সভার রেজুলেশনের আংশিক অংশ অপপ্রচারের মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একটি প্রশাসনিক আলোচনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে আন্দোলনকারীদের বিভ্রান্ত না হয়ে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী জানান, সরকারি বা প্রশাসনিক যে কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পূর্বে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নীতিগত খসড়া প্রণয়ন, সভার কার্যবিবরণী বা রেজুলেশন প্রস্তুত, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় এবং আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই কেবল চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ খসড়া সভার রেজুলেশনের কেবল একটি সুনির্দিষ্ট অংশ অসাধু উপায়ে বাইরে প্রকাশ করা হয়েছে। মূল নথির সঙ্গে যুক্ত থাকা মন্ত্রীর পর্যালোচনার নির্দেশনাসংক্রান্ত পরবর্তী অংশটি কৌশলে বাদ দিয়ে প্রচার করায় জনমনে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও তথ্য ফাঁসের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চূড়ান্ত নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার আগেই খসড়া সভার নথি থেকে আংশিক তথ্য বের করে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। এই আংশিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে আন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, তা মূল প্রেক্ষাপট না বুঝে করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার নিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সময়ে কোনো ঘটনা বা তথ্য পাওয়ার পর তার সত্যতা যাচাই না করেই স্থানীয় ও ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এতে করে মূল ও বস্তুনিষ্ঠ সত্য আড়ালে চলে যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রান্তির জন্ম হয়। যেকোনো ধরনের গুজব বা অসমাপ্ত তথ্যে প্ররোচিত না হয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য তিনি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকারের নীতিগত যে কোনো বিষয়ে মতদ্বৈততা থাকলে তা নিরসনে আলোচনার পথ উন্মুক্ত রয়েছে। আন্দোলনের নামে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ বিনষ্ট না করে যুক্তি এবং গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পরামার্শ দেন তিনি। সরকারের মাত্র পাঁচ মাস মেয়াদে অহেতুক রাজনৈতিক অজুহাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে যেকোনো গঠনমূলক আলোচনার প্রস্তাব দেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা খাতে যেকোনো বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবং বিধি মোতাবেক জনস্বার্থ নিশ্চিত করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলে তিনি শিক্ষা পরিবারকে আশ্বস্ত করেন।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ