জাতীয় ডেস্ক
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় পারিবারিক জীবনের নানা প্রতিকূলতা, ত্যাগ এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে জীবনের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাম্প্রতিক একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা স্মৃতি এবং রাজনীতির কঠিন দিনগুলোতে পরিবারের অসামান্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল জানান, শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই তাঁর পারিবারিক জীবন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বিশেষ করে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে পুরো পরিবারকে অতিবাহিত করতে হয়েছে। এই দীর্ঘ পথচলায় তাঁর স্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্য এবং সাহসিকতার সঙ্গে পরিবারের হাল ধরে রেখেছেন। একটি বেসরকারি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘকাল চাকরি করে তিনি শুধু সংসারের আর্থিক যোগান নিশ্চিত করেননি, বরং সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে মূল দায়িত্ব পালন করেছেন।
পারিবারিক জীবনের আর্থিক টানাপোড়েন এবং সন্তানদের সংগ্রামের স্মৃতিতর্পণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, অত্যন্ত সাধারণ জীবনের মধ্য দিয়ে তাঁর দুই কন্যা বড় হয়েছেন। তৎকালীন সময়ে যাতায়াতের জন্য তাঁদের গণপরিবহন যেমন টেম্পো ব্যবহার করতে হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সন্তানদের হলিক্রস স্কুলে পড়াশোনা করানো এবং আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে রাহাত আরা বেগমের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। পরবর্তীতে কর্মজীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটে।
রাজনৈতিক জীবনের সংকটময় মুহূর্তগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং গ্রেফতারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁর ওপর নেমে আসা প্রতিটি সংকটে তাঁর স্ত্রী অসাধারণ মানসিক শক্তি দেখিয়েছেন। পুলিশের উপস্থিতি বা গ্রেফতারের আশঙ্কা তৈরি হলেও তিনি আতঙ্কিত না হয়ে বরং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ের বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানান, গভীর রাতে বাড়িতে পুলিশি অভিযানের সময় আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করার সুযোগ তৈরি করতে তাঁর স্ত্রী সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। এমনকি গ্রেফতারের মুহূর্তে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে দেওয়ার মতো দৃঢ়তাও তিনি প্রদর্শন করেছেন।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক যাত্রায় স্ত্রী কখনো তাঁর প্রতি অখুশি বা বিরক্ত হননি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ ধরনের নিরবচ্ছিন্ন সহমর্মিতা ও পারিবারিক সহযোগিতা ছাড়া রাজনীতিতে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব ছিল। একজন রাজনীতিবিদের জীবনের নেপথ্যে পরিবারের ত্যাগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর স্ত্রীর জীবনসংগ্রাম তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেশ ও দলের কাজে নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ দিতে পারার পেছনে সহধর্মিণীর এই আত্মত্যাগই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করেন তিনি।


