বিনোদন ও অপরাধ ডেস্ক
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন (সালমান শাহ) হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযুক্ত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবী জামিনের আবেদন পেশ করেন। জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম (জুয়েল)। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের যুক্তি ও শুনানি পর্যবেক্ষণ শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত দেন।
এর আগে, গত ৯ আগস্ট ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় আশরাফুল হক ডনকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইডি সূত্রে জানা যায়, সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রেক্ষাপটে অভিযুক্তের বিদেশযাত্রার ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। ওই দিন তিনি সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার চেষ্টা করলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে একই দিন অপরাহ্নে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আদালতে উপস্থাপিত জামিন আবেদনে ডনের আইনজীবী দাবি করেন, আসামি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের একজন পরিচিত অভিনেতা এবং এই ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এজাহার কিংবা গ্রেফতারি ফরোয়ার্ডিংয়ে আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের স্পষ্ট উল্লেখ নেই। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দাবি করে আইনজীবীরা তার জামিনের আর্জি জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অত্যন্ত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে জামিন না দিয়ে কাস্টডিতে রাখা আবশ্যক।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডের নিজ বাসা থেকে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। সূচনালগ্নে এ ঘটনাকে অপমৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পরবর্তীতে পরিজনদের আপত্তির মুখে বিষয়টি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও একাধিক তদন্ত সংস্থার পর্যালোচনার পর সম্প্রতি মামলাটি নতুন মোড় নেয়। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করে নতুন মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন— প্রধান আসামি সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আবদুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ। দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম চর্চিত এই মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে পুনর্তদন্ত পরিচালনা করছে।


