২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ২৫

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ২৫

স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৫ শিশুর শরীরে হাম ও হামের লক্ষণ শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার প্রেরিত নিয়মিত তথ্য বিবরণী ও হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে চারজন হামের নানাবিধ জটিল উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। অন্য এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে ৮৪ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে এবং ৯৪১ জন শিশুর শরীরে রোগের নানা উপসর্গ দেখা গেছে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংক্রমণের ধারা মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ১৫ মার্চ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হাম এবং এর সম্ভাব্য উপসর্গে মোট ৮৮৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই মোট প্রাণহানির মধ্যে ৭৭৮ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে উপসর্গজনিত জটিলতায় এবং ৯৯ জন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
সারাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর এই রোগের প্রাদুর্ভাবের ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৮৭৯ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। একই মেয়াদে সুস্থতা লাভ করে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৪৭ জন শিশু।
চলতি বছরের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে দেশে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১২৫ জনে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৪৬৯ জন রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসাগারে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষায়িত ও সাধারণ হাসপাতালে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৩ জন শিশু চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ভর্তি হয়। চিকিৎসা প্রদান শেষে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ জন শিশু সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, শিশুস্বাস্থ্যে হামের মতো সংক্রামক ব্যাধির এই হার প্রতিরোধমূলক টিকাদান ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ তাগিদ দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলে পুষ্টিহীনতা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াজনিত উপসর্গ যুক্ত হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ ও টিকাদান কভারেজ সুনিশ্চিত করা সম্ভব হলে শিশুমৃত্যুর হার লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পাবে।
বিদ্যমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের শিশু দেহে জ্বর, ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ