বাংলাদেশ ও জাপানের সপ্তম পররাষ্ট্র দপ্তর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশ ও জাপানের সপ্তম পররাষ্ট্র দপ্তর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীকে সফরের আমন্ত্রণ

বাংলাদেশ ডেস্ক
ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জাপান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির পক্ষে এই আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন দেশটির জ্যেষ্ঠ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু। একই সঙ্গে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও জাপান সফরের নিমন্ত্রণ জানানো হয়। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও জাপানের সপ্তম পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ (এফডিসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত ও আমন্ত্রণ চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশের এবং জাপানের জ্যেষ্ঠ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল জাপানের ‘অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ (ওএসএ) কাঠামো। এই প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার আওতায় বাংলাদেশ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক সরঞ্জাম পাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এর আগে এই কাঠামোর অধীনেই জাপান বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে পাঁচটি আধুনিক টহল নৌকা সরবরাহ করেছিল। সামরিক সরঞ্জাম সম্প্রসারণের বিষয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অনুরোধে টোকিও ইতিবাচক সাড়াদানের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ অবস্থানের গুরুত্ব নির্দেশ করে।
অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে ‘বে অব বেঙ্গল শিল্প প্রবৃদ্ধি ট্রাইব্যুনাল’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগের আওতায় বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলোতে জাপানি সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেছে ঢাকা। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রো রেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে জাপানের ধারাবাহিক কারিগরি ও আর্থিক ভূমিকার কথা স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি, বাংলাদেশের উদীয়মান শিল্পখাত, সবুজ জ্বালানি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাপানি আধুনিক প্রযুক্তি ও অতিরিক্ত অর্থায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক আলোচনায় জাপানি ঋণের উচ্চ সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা। বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা জানান, ঋণ পরিশোধের শর্ত কিছুটা শিথিল করা হলে অর্থনৈতিক চাপ কমবে। জবাবে জাপানি প্রতিনিধিদলের প্রধান স্বীকার করেন যে তাদের ঋণের সুদের হার তুলনামূলক বেশি। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, নীতিগত কারণে এই হার নির্দিষ্টভাবে শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী জাপানি উন্নয়ন সহায়তার সব দেশের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।
এ ছাড়া বৈঠকে মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার দৃষ্টিভঙ্গি, প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ), জাপানে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের মতো একাধিক কৌশলগত এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে জাপানের সাথে সমন্বিত পথচলা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে সুদৃঢ় ভিত্তি প্রদান করবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ