অপরাধ ডেস্ক
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিচিত মুখ এবং টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর শামসো বিবিকে (যিনি অনলাইনে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে শামসো বিবির ১৩ লাখেরও বেশি অনুসারী (ফলোয়ার) ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটিতে তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার মধ্যেই এই সহিংসতার ঘটনা ঘটল।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কাশিফ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি ফোন কল পান শামসো বিবি। ফোন কল পেয়ে তিনি বাড়ির বাইরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি তার ১৫ বছর বয়সী বোন আসিমা এবং ভাই নিয়ামতউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে একটি গাড়িতে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে একটি পেট্রোল পাম্পের নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুই অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারী তাদের গাড়িটিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।
হামলাকারীদের ছোড়া একটি গুলি শামসো বিবির ঘাড়ের ঠিক মাঝখানে বিদ্ধ হয়। এর ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। চালক ও যাত্রীদের ওপর হামলার মুখে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়িটি অন্য একটি চলন্ত গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়, যার ফলে বিবির বোন আসিমা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নিহতের পিতা ফজল সাহেবজাদার দায়ের করা এজাহারে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে সম্ভাব্য আর্থিক বিরোধের বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। পুলিশকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাউসার এবং জাভেদ নামের দুই ব্যক্তির সঙ্গে শামসো বিবির পূর্বে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। ওই অর্থ পরিশোধ বা ফেরত দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে অতীতে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এসব হুমকির বিষয়ে এর আগে রাজধানী ইসলামাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল বলে পরিবার দাবি করেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিহতের পরিবারের দেওয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ফোনকলদাতা কাশিফ এবং আর্থিক লেনদেনে জড়িত অভিযুক্ত কাউসার ও জাভেদকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যক্তিত্বদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি ও সহিংসতার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সমাজে নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের কার্যক্রমের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা জানিয়েছে, সবকটি সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের কাজ চলছে।


