যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত: নতুন অভিযানে উত্তেজনা বৃদ্ধি

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত: নতুন অভিযানে উত্তেজনা বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তৎপরতা থামেনি। সর্বশেষ দেশটির বিন্ত জবেইল জেলার হাদাথা শহরে নতুন করে অভিযান চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এই সামরিক কর্মকাণ্ডের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাদাথা শহরের পশ্চিমাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনারা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করেছে। একই সময়ে ইসরায়েলি বেশ কয়েকটি সামরিক যান শহরের ভেতরে বিভিন্ন এলাকায় টহল ও চলাচল করে। গত কয়েকমাস ধরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন জনপদে এ ধরনের দফায় দফায় সামরিক উপস্থিতি যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের গত ২ মার্চ লেবাননে বড় ধরনের বিমান হামলা ও সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ওই সময় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক শহরে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তারা। তীব্র এই সংঘাত ও বোমাবর্ষণের মুখে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার ১০ লাখের বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সরকারের পক্ষ থেকে তখন একে চরম মানবিক সংকট হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর গত ১৭ এপ্রিল লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কাগজে-কলমে বহাল থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী নিয়মিত তা লঙ্ঘন করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গত ১৫ আগস্ট ভোরে লেবাননের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪৮ জনের অধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক এবং ধ্বংস হয়ে গেছে বহু অবকাঠামো। হামলা ও পাল্টা হামলার এই চক্রে লেবাননের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক যান চলাচল এবং গুলিবর্ষণের মতো ঘটনা প্রমাণ করে যে যুদ্ধবিরতি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এই ধরনের ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতা লেবাননের দক্ষিণ সীমান্ত অঞ্চলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের স্ফুলিংগ ছড়িয়ে দিতে পারে। যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর রাখতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও তদারকি এখন অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ