ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ফের ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ফের ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ফ্লোরেস অঞ্চলে ফের ৫ দশমিক ৯ মাত্রার একটি মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। জার্মানির ভূতত্ত্ব গবেষণা সংস্থা জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। অত্যন্ত কম গভীরতার কারণে কম্পনটি অনুভূত হয়েছে জোরালোভাবে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (১৪ আগস্ট) দেশটির একই অঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই বড় ভূমিকম্প এবং তার পরবর্তী ধারাবাহিক আফটারশকের ধাক্কায় পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত শনিবারের ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত অর্ধশত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। এছাড়া বহু ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবারের সেই বড় বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার ভোরে সংঘটিত এই ৫.৯ মাত্রার নতুন ভূমিকম্পটি দুর্গত এলাকার উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় এখানে প্রায়ই বড় ধরনের ভূকম্পন আঘাত হানার ঝুঁকি থাকে। দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিদুর্যোগ বলয়ের মধ্যে হওয়ায় টেকটোনিক প্লেটের ক্রমাগত সংঘর্ষের ফলে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়মিত ঘটে থাকে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর থেকেই ভূত্বকের ভেতরের টেকটোনিক প্লেটগুলোতে অস্থিরতা বিরাজ করছে, যার ফলে বারবার আফটারশক বা নতুন কম্পন অনুভূত হচ্ছে বলে ধারণা করছেন ভূতত্ত্ববিদরা।
বারবার ঘটে যাওয়া এই ভূকম্পনের ফলে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ বা উঁচুতে অবস্থিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পাহাড়ী ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং আগের ভূমিধসের কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের পুরোপুরি কার্যক্রম চালাতে বেগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারি ও আন্তর্জাতিক পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য পরবর্তী ধাক্কা বা আফটারশকের বিষয়ে জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ