আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য হজ সেবাকে আরও নির্বিঘ্ন, মানসম্মত ও নিরাপদ করতে ২০২৭ সালের হজ মৌসুমের প্রাথমিক প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি আরব। মৌসুম শুরু হতে দীর্ঘ সময় বাকি থাকতেই ৭৫টিরও বেশি দেশের হজবিষয়ক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমন্বয় সভা পরিচালনা করছে দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখ লাখ মুসল্লির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সেবা নিশ্চিতে এই আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চলমান এই সমন্বয় সভাগুলোতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর হজ কার্যক্রমের প্রাথমিক খসড়া পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের হালনাগাদ বিধিবিধান, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নিজস্ব চাহিদা ও প্রস্তাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। মূলত আন্তর্জাতিক হজ মিশনগুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর পরিচালনা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সার্বিক সেবার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, হজযাত্রীদের নিজ দেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছানো, মক্কা ও মদিনায় পরিবহন ও আবাসন সুবিধা প্রদান থেকে শুরু করে হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় তার সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোগত সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। আগাম এই প্রস্তুতির ফলে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো পর্যাপ্ত সময় পাবে, যা শেষ মুহূর্তের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আগাম সমন্বয় প্রক্রিয়া সৌদি আরবের কৌশলগত উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতাধীন ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর (হজযাত্রী অভিজ্ঞতা কর্মসূচি) একটি অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। এই বিশেষ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে আগত হজ ও ওমরাহযাত্রীদের সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করা। বিশেষ করে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, দ্রুত ভিসা ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং মিনা ও আরাফাতে তাঁবু ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে এই সমন্বয় অপরিহার্য।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি কর্তৃপক্ষ পরবর্তী হজ মৌসুমের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আগাম পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আসছে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ হজের উদ্দেশ্যে দেশটিতে সমবেত হন। বিপুল এই জনসমাগমের পরিবহন ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক লজিস্টিক সহায়তা নির্বিঘ্ন রাখতে আন্তর্জাতিক হজ মিশনগুলোর সঙ্গে বহু আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা জরুরি হয়ে পড়ে।
সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও এই যোগাযোগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। আগাম প্রস্তুতির এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই বৈশ্বিক পরিসরে হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।


