খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি ও শিক্ষায় পরিবর্তনের উদ্যোগ সরকারের

খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি ও শিক্ষায় পরিবর্তনের উদ্যোগ সরকারের

জাতীয় ডেস্ক
ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে এমন একটি দক্ষ ও যোগ্য নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে শিক্ষা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি’ তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক এক কর্মশালায় সরকারের এই নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক শিক্ষার বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের সঙ্গে খেলাধুলাভিত্তিক শিখন পদ্ধতির সমন্বয় এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারের শিক্ষানীতির অগ্রাধিকার পুনর্ব্যক্ত করে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায় থেকেই এমন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যারা সততা, নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের গুণে বলীয়ান হয়ে দেশকে পরিচালিত করতে পারবে। শৈশব থেকেই খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তা কেবল শারীরিক সক্ষমতাই বৃদ্ধি করবে না, বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং শৃঙ্খলাবোধ তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ করে বর্তমান সময়ে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামাজিক নানা বিচ্যুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, শিশুদের বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড, যেমন ইভটিজিংসহ অন্যান্য নেতিবাচক পরিবেশ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা একটি শক্তিশালী মাধ্যম। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের দায়িত্ব হবে শুধু খেলাধুলার আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা নয়, বরং খেলার মধ্যকার দলগত সহযোগিতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় দিকগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চারিত করা।
প্রাথমিক স্তরে নতুন এই শিখন পদ্ধতির বিস্তার সম্পর্কে জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণি থেকে ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কার্যক্রমটি চালু করা হচ্ছে। তবে পর্যায়ক্রমে এর আওতা বাড়িয়ে প্রথম শ্রেণি থেকেই এই শিক্ষা পদ্ধতি চালুর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একেবারে শৈশব থেকেই শিক্ষার্থীরা মুখস্থবিদ্যার নির্ভরতা কাটিয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিখতে পারবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ পাঠ্যক্রম প্রসঙ্গে জানানো হয়, ২০২৮ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। এজন্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাক্রমের কাঠামো তৈরি করবে, যেখানে শ্রেণিকক্ষের তত্ত্বীয় শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষার যথাযথ ভারসাম্য থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলার কার্যকর সংযোজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত কাজ করার মানসিকতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলি তৈরি করে। প্রাথমিক স্তরে নেওয়া এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ