পুলিশ লাইন্সে গান বাজানো নিয়ে সংঘর্ষ-ভাঙচুর, পুলিশ-শিক্ষার্থীসহ আহত অন্তত ৩

পুলিশ লাইন্সে গান বাজানো নিয়ে সংঘর্ষ-ভাঙচুর, পুলিশ-শিক্ষার্থীসহ আহত অন্তত ৩

অপরাধ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ২০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ সর্বমোট অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডায় অবস্থিত পুলিশ লাইন্স প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি)-এর আগমন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্সের অভ্যন্তরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে উচ্চশব্দে গান বাজানো হচ্ছিল। এ সময় পার্শ্ববর্তী জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসা ও স্থানীয় অন্যান্য মাদরাসার শিক্ষার্থীরা শব্দের তীব্রতা কমানোর জন্য অনুরোধ জানাতে সেখানে যান।

শব্দের মাত্রা কমানো নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শতাধিক মাদরাসা শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের প্রধান ফটক অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। এতে অনুষ্ঠানস্থল লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিপুলসংখ্যক মাদরাসা শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন পুলিশ লাইন্সের আশপাশে জড়ো হতে শুরু করে। এর ফলে গভীর রাত পর্যন্ত মেড্ডা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে এবং তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে রাত গভীর হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলামসহ মাদরাসার শীর্ষ মুরব্বি ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পুলিশ লাইন্সে উচ্চস্বরে গান বাজনা না করার নিশ্চয়তা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দের দীর্ঘ আলোচনার পর মধ্যরাতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ কাজ করেছে। তবে দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ বাড়াবাড়ি বা অতি উৎসাহী হয়ে কোনো অনভিপ্রেত আচরণ করে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে পুলিশ লাইন্স ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ