রাজনীতি ডেস্ক
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনো ধরনের একতরফা স্বার্থ বা আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে যদি ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়, তবে সরকার তাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে; অন্যথায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ন করে কোনো পদক্ষেপে বাংলাদেশ অংশ নেবে না।
রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম মৌলিক নীতি। তিনি উল্লেখ করেন, স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে ভারত যদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উদ্যোগ নেয়, তবে সরকার অবশ্যই তাকে সাধুবাদ জানাবে। তবে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো প্রস্তাব বা সমমর্যাদাহীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমান বিএনপি সরকার কখনোই সম্মতি দেবে না।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুষম ও সার্বভৌমত্বভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার যে অঙ্গীকার নীতিগতভাবে ব্যক্ত করা হচ্ছে, এই বক্তব্য তারই ধারাবাহিক রূপ। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং পানিবণ্টনসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে সমঅধিকারের প্রশ্নটি দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
অনুষ্ঠানে দলীয় সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ এবং বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দেশের সার্বিক সমৃদ্ধি, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং মরহুম নেতাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


