কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ ও প্যাকেজের শর্ত গ্রাহকদের স্পষ্টভাবে জানানোর তাগিদ

কল ড্রপের ক্ষতিপূরণ ও প্যাকেজের শর্ত গ্রাহকদের স্পষ্টভাবে জানানোর তাগিদ

তথ্যপ্রযুক্তি  ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
মোবাইল ফোনে অনাকাঙ্ক্ষিত কল ড্রপ হলে গ্রাহকের অর্থ কীভাবে সমন্বয় বা ফেরত দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত সুবিধার কী পরিণতি ঘটে—এসব বিষয়ে গ্রাহকদের কাছে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও পরিষ্কার তথ্য তুলে ধরার জন্য মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। একইসঙ্গে কল ড্রপ ও জটিল প্যাকেজ কাঠামো নিয়ে গ্রাহকপর্যায়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দূর করতে অপারেটরদের কার্যকর সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন অপারেটরের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
টেলিযোগাযোগ খাতের নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও গ্রাহকস্বার্থ সুরক্ষায় পুরোপুরি সচেষ্ট। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সম্প্রতি সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের মতো একটি বড় ও যুগান্তকারী নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। তবে এই ধরনের জনবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগের প্রকৃত সুফল যেন কেবল করপোরেট মুনাফার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে হবে। গ্রাহকরা যাতে সুলভে এবং ঝামেলাহীনভাবে উন্নত টেলিকম সেবা পেতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা সব পক্ষেরই দায়িত্ব।
রাজধানী ঢাকায় নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে সাধুবাদ জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ঢাকা কেন্দ্রিক এই উন্নয়ন প্রশংসনীয় হলেও প্রযুক্তির সুফল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও নিয়ে যেতে হবে। ডিজিটাল সেবা পাওয়ার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। তাই শুধুমাত্র বড় শহরগুলোর মধ্যে উন্নয়ন সীমাবদ্ধ না রেখে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, চর এলাকা ও প্রত্যন্ত গ্রামে দ্রুতগতির নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এখনও কিছু অপারেটরের নেটওয়ার্ক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে তিনি সব অপারেটরকে ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নে মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে টাওয়ার শেয়ারিং সুবিধা উন্মুক্ত থাকার কারণে অপারেটরদের জন্য দুর্গম এলাকাগুলোতে মূলধনী ব্যয় অনেক কমে এসেছে এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সহজ হয়েছে। এই সুবিধার যথাযথ সদ্ব্যবহার করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকদের মানসম্মত ভয়েস ও ইন্টারনেট সেবা দেওয়া অপারেটরদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব।
ভোক্তাদের অধিকার ও প্রতিদিনের ভোগান্তির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, কল ড্রপের বিপরীতে ক্ষতিপূরণ বা অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ গ্রাহকের মনে স্বচ্ছ ধারণার ঘাটতি রয়েছে। একটি কল অপ্রত্যাশিতভাবে বিচ্ছিন্ন হলে গ্রাহকের কতটুকু আর্থিক ক্ষতি হয় এবং তা কীভাবে তাদের হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়, তা সহজ ভাষায় জানাতে হবে। এছাড়া গ্রাহকদের প্রায়ই অভিযোগ থাকে যে, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিয়ে ডেটা বা কম্বো প্যাকেজ কেনার পর মেয়াদের বাধ্যবাধকতায় বড় অঙ্কের অব্যবহৃত ডেটা বা সুবিধা হারিয়ে যায়। এই ধরনের প্যাকেজের শর্তাবলী বিক্রির আগেই গ্রাহকদের কাছে আরও সুস্পষ্ট ও সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরা জরুরি।
অর্থনৈতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে টেকসই বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্বের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সাম্প্রতিক ফলপ্রসূ আলোচনার প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়াভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বাংলাদেশে আরও বড় ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। টেলিকম খাতের সামগ্রিক মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদাররা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। এছাড়া সংশ্লিষ্ট অপারেটরের শীর্ষ নির্বাহী ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান বৃদ্ধির বিষয়ে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ