অপরাধ ডেস্ক
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় বাড়িতে একা পেয়ে ২১ বছর বয়সি এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শাহাদৎ হোসেন নামের ওই ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট দুপুরে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী তরুণীর পূর্বে বিয়ে হলেও পারিবারিক কারণে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি বাবার বাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে প্রতিবেশী শাহাদৎ হোসেন ঘরে প্রবেশ করেন এবং ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি কাউকে জানালে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার পর তরুণী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে ইশারা-ইঙ্গিতে বিষয়টি তার মাকে জানান। পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাটি অবগত হয়ে পরদিন সোমবার (১৭ আগস্ট) ভুক্তভোগীকে নিয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় উপস্থিত হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রাথমিক সত্যতা যাচাই শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
স্থানীয় পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল ইসলাম বাবু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত শাহাদৎ হোসেন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে পরিবারটিকে সামাজিকভাবে সুরক্ষা প্রদানের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর শারীরিক পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য জেলা সদর হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শাহাদৎ হোসেনকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বাকপ্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ওপর সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীরা সাধারণত তাদের যোগাযোগে অক্ষমতার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে নির্ভুল অভিযোগপত্র দাখিল এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সমাজে এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।


