বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি ৫ জনের

বিধি লঙ্ঘনের দায়ে বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি ৫ জনের

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক
চাকরি বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচজন কর্মকর্তার বেতন অবনমন বা ডিমোশনের মাধ্যমে প্রশাসনিক দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির নিয়মিত কমিশন সভায় সার্বিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা শেষে এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছিল এবং তাদের লিখিত জবাব পর্যালোচনা করে কমিশন এই কঠোর সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের তালিকায় বিএসইসির বিভিন্ন স্তরের উচ্চপদস্থ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল করিম, পরিচালক মো. আবুল হাসান এবং পরিচালক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম মজুমদার। এ ছাড়া অতিরিক্ত পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম ও মোল্যা মো. মিরাজ উস সুন্নাহ এবং যুগ্ম পরিচালকদের মধ্য থেকে রাশেদুল আলমকে এ শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. নান্নু ভূঞা, কাজী মো. আল-ইসলাম, মো. সহিদুল ইসলাম, মো. বনী ইয়ামিন খান ও মো. তৌহিদ হাসান। সহকারী পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন মো. আমিনুল হক খান, মো. আবদুল বাতেন ও মো. সাজ্জাদ হোসেন। এ ছাড়া ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের তালিকাভুক্ত হয়েছেন মো. আবু ইউসুফ, কাওসার পাশা বৃষ্টি এবং সমীর ঘোষ।
অন্যদিকে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বেতন গ্রেড অবনমনের শাস্তি পাওয়া পাঁচজন কর্মকর্তা হলেন—সহকারী পরিচালক মো. জনি হোসেন, মো. রায়হান কবির, মো. তরিকুল ইসলাম, মোছা. মাকসুদ মিলা এবং লাইব্রেরিয়ান মো. সেলিম রেজা বাপ্পী।
সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, সেবা ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গত ২৩ জুলাই এসব কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করা তাদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় সার্ভিস রুল অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। কমিশন সভায় সেই সুপারিশ চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়।
পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে বিএসইসিতে বেশ কিছু কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে চাকরি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংস্থাটির অপর একজন পরিচালককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় একযোগে ১৭ জন কর্মকর্তাকে একই ধরনের শাস্তির আওতায় আনার ঘটনা বিএসইসির ইতিহাসে নজিরবিহীন এক প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীর্ষ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে এমন বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন বিধি লঙ্ঘিত হয়েছিল, সে সম্পর্কিত বিস্তারিত বিবরণ কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ