জাতীয় ডেস্ক
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে ভোটগ্রহণের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্ধারিত নির্বাচনী স্থানে উপস্থিত থেকে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সিইসি বলেন, ঐতিহাসিক এই নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে কমিশনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের কাছ থেকে ইতিবাচক সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে একটি সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর উপস্থিতিতে সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এমন একটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারাকে তিনি নিজের জন্য বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করেন।
নির্বাচনের সার্বিক আচরণবিধি সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটি সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে পরিচালিত হয়। নির্বাচনী স্থানে উপস্থিত থেকে কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা চালানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিধিমালার এই বাধ্যবাধকতা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক পদটি শূন্য হয়। পরবর্তীতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল ও বৈধ প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রধান দুটি রাজনৈতিক বলয়ের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা জোটের পক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন অলি আহমদ।
সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মূল ভোটার। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ফলে অবশিষ্ট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। সংসদ সদস্যদের তালিকা সমন্বয় করে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে কমিশন।
ঘোষিত সময়সূচি অনুসারে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা সরাসরি ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং স্পিকারের ভোটদানের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এরপর গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে সাময়িকভাবে সরাসরি সম্প্রচার স্থগিত রাখা হলেও ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণার পর্বটি পুনরায় সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।
ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ ভবনের নির্ধারিত সভাকক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করবেন। ফলাফল ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আইনানুযায়ী গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত সার্বিক নির্দেশিকা ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন পোর্টাল-এ প্রয়োজনীয় বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে।


