রাজনীতি ডেস্ক
সংবিধানে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না থাকা এবং ৭০ অনুচ্ছেদের বিদ্যমান কাঠামোর কারণে রাষ্ট্রপতি পদের প্রকৃত সম্মান ও ক্ষমতার ভারসাম্য ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি কার্যত দলীয় প্রভাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের নির্বাচনপ্রক্রিয়া, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, সংবিধানে সংসদ সদস্যদের নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকায় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল পূর্বনির্ধারিত রূপ নেয়। ফলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সাংবিধানিক ক্ষমতার যে ভারসাম্য প্রত্যাশিত, সেই লক্ষ্য অর্জনের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়ে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রপতি পদটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে উন্নীত হতে পারত।
নির্বাচনে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক সংস্কার সাধিত না হলেও একটি বহুদলীয় ও প্রতিযোগিতামূলক গণতান্ত্রিক চর্চা চালু রাখার অংশ হিসেবেই বিরোধীদলীয় জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য কোনো একক রাজনৈতিক শক্তির একতরফা আধিপত্যের বিকল্প হিসেবে জনসচেতনতা তৈরি করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকার বিভিন্ন স্তরে দলীয় প্রভাব বিস্তার করছে, যার প্রতিফলন এই নির্বাচনপ্রক্রিয়াতেও দৃশ্যমান হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন না এনে পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামোর চর্চাকেই অব্যাহত রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে গোপন ব্যালট এবং সাংবিধানিক সংস্কারের যে দাবিগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল, বর্তমান প্রক্রিয়ায় সেগুলোর যথাযথ প্রতিফলন দেখা যায়নি।
সংসদ কক্ষের কার্যপ্রণালি ও নির্বাচন পরিচালনা পদ্ধতির বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অধিবেশন আহ্বান না করে সংসদের বৈঠক ডাকা এবং নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে ভোট গ্রহণের মতো কারিগরি দিকগুলোর কারণে সার্বিক প্রক্রিয়ার সংস্কার প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে।
পরিশেষে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জানান, সামগ্রিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা প্রদান এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই বিরোধী দলগুলো যৌথভাবে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে।


