যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় এশিয়ার বাজারে তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় এশিয়ার বাজারে তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার প্রেক্ষাপটে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। সোমবার সকালে এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই এক শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা আগামী দিনে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারদরে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় এক শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগের কার্যদিবসের সমাপনীতে ব্রেন্ট ক্রুডের লেনদেন শেষ হয়েছিল ৯৪ দশমিক ৩৯ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই বা ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রায় এক শতাংশ কমে ৮৬ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়ায়, যা আগের সমাপ্তিতে ছিল ৮৭ দশমিক ০৬ ডলার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পর গত সপ্তাহে জ্বালানি তেলের বাজারে এক ধরনের ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, দেশটির প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নতুন নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট ধরন এবং তা বাস্তবায়নের পরিধি স্পষ্ট হওয়ার পর জ্বালানি তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ আরও পরিষ্কার হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাণিজ্যিক নীতির ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর আরোপিত এসব নিষেধাজ্ঞা দেশটির তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে কতটা ব্যাহত করে, তার ওপর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অনেকটাই নির্ভর করবে। এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারকে দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিতিশীল রাখতে পারে। এই প্রণালির ওপর দিয়ে বিশ্ববাজারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়ে থাকে, ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের বাধা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ওপর সম্ভাব্য চাপ এড়াতে বিভিন্ন দেশ বিকল্প উৎস সন্ধানের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নীতির কারণে সামনের দিনগুলোতে তেলের বাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় ফ্রন্টে সতর্কতা প্রয়োজন।
অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ