খেলাধুলা ডেস্ক
লা লিগায় নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও জমকালোভাবে শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। রোববার রাতে মার্তিনেজ ভালেরো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় স্বাগতিক এলচেকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে কোচ হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। কাতালান ক্লাবটির এই দাপুটে জয়ে জোড়া গোল করে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন রাফিনিয়া ও তরুণ মিডফিল্ডার ফার্মিন লোপেজ। এছাড়া বার্সেলোনার জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই জালের দেখা পেয়েছেন করিম আদেয়েমি এবং বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন অ্যান্থনি গর্ডন।
এর আগে শনিবার রিয়াল মাদ্রিদ তাদের প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলকে ২-১ গোলে পরাজিত করে শুভসূচনা করেছিল। রোববারের এই ম্যাচে বার্সেলোনা বড় ব্যবধানের জয় তুলে নিয়ে লিগ টেবিলে নিজেদের শক্ত অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখল। গত মৌসুমে দারুণ সাফল্যের পর নতুন মৌসুমের শুরুতেও কোচ হান্সি ফ্লিক তার কৌশলগত দক্ষতা ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা ধরে রেখেছেন, যা এই ম্যাচে স্পষ্টতই দৃশ্যমান ছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে বার্সেলোনা। খেলার ১৪ মিনিটে স্বাগতিক দলের ডিফেন্ডার ভিক্টর চুস্ত পেনাল্টি বাক্সে ফাউল করেন বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়াকে। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন রাফিনিয়া। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে এলচে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালালেও বার্সেলোনার রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত সতর্ক। রক্ষণভাগে এরিক গার্সিয়া দক্ষতার সঙ্গে প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো প্রতিহত করেন। এছাড়া মাঝমাঠে গাভির সৃজনশীল পাসিং প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে রাফিনিয়ার নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বার্সেলোনার নতুন জার্সিধারী খেলোয়াড় করিম আদেয়েমি। অভিষেকেই গোল পেয়ে এই তরুণ ফরোয়ার্ড তার সামর্থ্যের প্রমাণ দেন।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের কাছে নিয়ে নেয় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন। মাঠে নেমেই খেলার গতি বদলে দেন এই তরুণ। তার অসাধারণ পাস থেকেই নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি আদায় করে নেন রাফিনিয়া। এরপর গর্ডনের আরেকটি দুর্দান্ত ক্রস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলের চতুর্থ গোলটি করেন বদলি নামা তরুণ মিডফিল্ডার ফার্মিন লোপেজ। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তরুণ ফুটবলার জাভি এসপার্টের বাড়ানো বল কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোলটি সম্পন্ন করেন লোপেজ। এর ফলে শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হান্সি ফ্লিকের দল।
চলমান ব্যস্ত মৌসুম ও ফিফা বিশ্বকাপের পরবর্তী ধকল বিবেচনায় নিয়ে এই ম্যাচে দলের বেশ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ হান্সি ফ্লিক। দলের অন্যতম ভরসা লামিনে ইয়ামাল শুরু থেকেই মাঠে থাকলেও তাকে পুরো ছন্দে দেখা যায়নি। তা ছাড়া বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী হাই-লাইন রক্ষণ কৌশলে মাঝেমধ্যে কিছু ত্রুটি ও ফাঁকফোকর দেখা গেলেও গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়া অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে একাধিক সেভ করে এলচেকে গোলবঞ্চিত রাখেন এবং দলের ক্লিন শিট নিশ্চিত করেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। তিনি জানান, যেকোনো ম্যাচ সহজ হবে নাকি কঠিন হবে, তা মূলত খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে। দল যদি নিজেদের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে পারে, তবে জয়ের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। এলচের বিপক্ষে ম্যাচটি কৌশলগতভাবে কিছুটা কঠিন হলেও দল নিজেদের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই জয়ের ফলে বার্সেলোনা কেবল পূর্ণ তিন পয়েন্টই নিশ্চিত করল না, বরং দীর্ঘ লিগ দৌড়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার শক্তিশালী মানসিক প্রস্তুতিও প্রদর্শন করল।


