বিনোদন ডেস্ক
জনপ্রিয় উপস্থাপক ও অভিনেত্রী সামিয়া আফরিন দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি তিনি জীবনের আরেকটি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রায় তিন মাস আগে করা পরীক্ষার মাধ্যমে তার শরীরে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসার কোষ শনাক্ত হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি ওভারিয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত এবং এটি ‘হাই-গ্রেড কার্সিনোমা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই রোগ শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয় এবং বর্তমানে তিনি কেমোথেরাপির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সামিয়া আফরিনের ক্যানসারের এই দীর্ঘ লড়াই শুরু হয়েছিল প্রায় পাঁচ বছর আগে। এর আগে ২০২২ সালে তার শরীরে চতুর্থ স্টেজের ক্যানসার ধরা পড়েছিল। সে সময় দীর্ঘ দুই বছর একটানা চিকিৎসা এবং ইমিউনোথেরাপির মাধ্যমে তিনি সেই জটিল রোগকে পরাজিত করে সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছিলেন।
তবে এবারের ক্যানসার ধরা পড়ার পর চিকিৎসা পদ্ধতি ও শারীরিক অভিজ্ঞতা আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যাওয়ার বিষয়টি তার জন্য নতুন এক মানসিক ও শারীরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে তিনি ভেঙে না পড়ে পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে মোকাবিলা করছেন। চুল নিজে থেকেই ঝরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে, বরং মানসিক শক্তি অটুট রেখে তিনি নিজেই চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন এই লুককে উদযাপন করছেন।
সামিয়া আফরিনের মতে, এই ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে বিষণ্ণতা বা হতাশার সাগরে ডুবে না থেকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াই সবচেয়ে বড় বিষয়। জীবনের এই চরম ক্রান্তিলগ্নে নিজের শারীরিক অবস্থা ও লড়াইয়ের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি দেশবাসীসহ তার সকল শুভানুধ্যায়ী ও ভক্তদের কাছে দোয়া ও ভালোবাসা চেয়েছেন, যাতে তিনি এই কঠিন চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন করে আগের মতো শক্তি ও কর্মচাঞ্চল্য নিয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওভারিয়ান ক্যানসারের ‘হাই-গ্রেড কার্সিনোমা’ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রকৃতির হয়ে থাকে, যার কারণে নিয়মিত ফলোআপ ও কঠোর চিকিৎসাক্রম বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামিয়ার এই সাহসিকতা এবং মানসিক দৃঢ়তা ক্যানসারে আক্রান্ত অন্যান্য রোগীদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তার এই লড়াই ও ইতিবাচক মানসিকতা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।


