ক্রীড়া ডেস্ক
গত দুই আসরের আর্থিক ক্ষতি ও ব্যবস্থাপনার ত্রুটি পর্যালোচনার পর চলতি বছর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসর আয়োজন না করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাড়াহুড়ো করে কোনো ‘জোড়াতালির’ টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি পুনরায় চালুর নীতিগত অবস্থান নিয়েছে বোর্ড। তবে বিসিবির এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের ওপর নির্ভরশীল পেশাদার ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে এবং বিকল্প ব্যবস্থার দাবিতে আজ রোববার বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও ঘরোয়া ক্রিকেটাররা।
বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ক্রিকেটভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত দুটি আসরে টুর্নামেন্ট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ও আয়োজকদের বড় অংকের আর্থিক লোকসান হয়েছে। এছাড়া টুর্নামেন্টের সার্বিক মান, সময়সূচি এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা ছিল। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল সম্প্রতি বিপিএল আয়োজন স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিয়ে জানান যে, ঘরোয়া ক্রিকেটের এই শীর্ষ আসরকে আরও বেশি পেশাদার ও আকর্ষণীয় করতে নতুন করে সবকিছু সাজাতে চায় বোর্ড।
এদিকে বিসিবির এমন সিদ্ধান্তে আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের ওপর নির্ভরশীল খেলোয়াড়রা। জাতীয় দলের বাইরে থাকা দেশের প্রায় শতাধিক পেশাদার ক্রিকেটারের আয়ের প্রধান উৎস হলো বিপিএল এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এর মতো টুর্নামেন্ট। এর আগে অনুষ্ঠিত ডিপিএলেও খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় তাদের আর্থিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। ফলে হঠাৎ করে বিপিএল বাতিল হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন এই খেলোয়াড়েরা।
ক্রিকেটারদের অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়ে션 অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানিয়েছেন, বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সভা করবেন। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের দাবি-দাওয়া এবং সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেবল বিপিএল নয়, বরং দেশের সামগ্রিক ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোর উন্নয়ন এবং সব টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের নিয়মিত ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার বিষয়টি বৈঠকে জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, জাতীয় দলের বাইরের ক্রিকেটারদের জন্য বিপিএল কেবল উপার্জনের মাধ্যমই নয়, বরং এটি তাদের ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখার এবং নিজেদের প্রমাণ করার অন্যতম বড় একটি মঞ্চ। তাই টুর্নামেন্টটি এক বছরের জন্য স্থগিত করার ফলে দেশের পাইপলাইনে থাকা তরুণ ও উদীয়মান ক্রিকেটারদের মানোন্নয়নও ব্যাহত হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বোর্ড সভাপতি ও ক্রিকেটারদের মধ্যকার এই বৈঠকে বিপিএলের বিকল্প হিসেবে কোনো সংক্ষিপ্ত বা বিকল্প ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব আসতে পারে, যা খেলোয়াড়দের আয়ের পথ কিছুটা হলেও সচল রাখতে সহায়ক হবে।


