ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার প্রবীণ কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার প্রবীণ কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ভোটে সংস্থাটির নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার প্রবীণ কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। ওআইসির নিয়ম অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদের অধিবেশনে ভৌগোলিক ভারসাম্য, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নবনির্বাচিত মহাসচিব বর্তমান মহাসচিব চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহার স্থলাভিষিক্ত হবেন। বর্তমান মহাসচিবের ৫ বছর মেয়াদি দায়িত্বকাল ২০২৬ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নতুন মহাসচিব আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও কূটনীতিতে তিন দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ এর আগে জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিশনে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি জটিল আঞ্চলিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকট নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আন্তর্জাতিক মহলে সুনাম অর্জন করেছেন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আফ্রিকান ইউনিয়ন তাকে ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য ওআইসির মহাসচিব পদে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছিল। পরবর্তীতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ভোটে তার এই শীর্ষ কূটনৈতিক পদে আসীন হওয়া নিশ্চিত হয়।
ওআইসির প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, সংস্থাটির মহাসচিবের মেয়াদ নির্ধারিত থাকে পাঁচ বছর এবং এই মেয়াদ নিয়ম মেনে মাত্র একবার নবায়ন করা সম্ভব। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংস্থায় নতুন নেতৃত্বের এই পরিবর্তনের ফলে ফিলিস্তিন সংকট, মুসলিম সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন গতির সঞ্চার হতে পারে বলে আশা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওআইসির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবীণ এই কূটনীতিকের নেতৃত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মুসলিম বিশ্বের অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে ওআইসির কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করতে নতুন মহাসচিব তার দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ