ঝিনাইদহে আইনমন্ত্রী: মক্কা চুক্তি ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট

ঝিনাইদহে আইনমন্ত্রী: মক্কা চুক্তি ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট

জাতীয় ডেস্ক
ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সমস্ত দিক বিবেচনা করে সরকার সময়োপযোগী ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈদেশিক নীতির স্বকীয়তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মক্কা চুক্তি ও পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ভারত তাদের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং বাংলাদেশও তার সার্বভৌম নীতি ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক বজায় রাখবে। দেশগুলোর নিজস্ব নীতিগত অবস্থান ও স্বাতন্ত্র্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত চলবে তাদের নিজস্ব নীতিতে, আর বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান সবসময়ই ভারসাম্যপূর্ণ এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কেবল সন্তুষ্টির পরিমাপে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে সর্বাত্মক ও নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনজীবন নিরাপদ রাখা এবং অপরাধমূলক কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।
বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনের অগ্রগতি তুলে ধরে আইনমন্ত্রী আরও জানান, বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি লাঘবে সরকার ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন সম্পন্ন হলে মামলার জট কমার পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম আরও জনবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস এবং শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ। কৃতি শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ