এ বছর বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতেন না ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

এ বছর বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতেন না ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলাধূলা ডেস্ক
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এবারের আসর স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানা ছিল না যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। এর আগে গত কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল এক সংবাদ সম্মেলনে অনিবার্য কারণে চলতি বছর বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে ঘোষণা দেন।
সাংবাদিকরা বিপিএল স্থগিত হওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর সাথে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে আমিনুল হক জানান বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমেই অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না এবং এ ধরনের একটি জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট কেন স্থগিত করা হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন।
বিসিবি সূত্রে জানা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটি না হওয়ায় ইতোমধ্যে ক্রিকেট অঙ্গনে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অতীতে বোর্ড যখন অন্য কোনো নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছিল, তখন বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালসহ শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা নিয়মিত টুর্নামেন্ট চালুর পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করেছিলেন। অথচ বর্তমান দায়িত্বে আসার পর ব্যবস্থাপনাগত বা অন্য কোনো কারণে টুর্নামেন্টটি স্থগিত করার ঘোষণা আসায় তা ক্রীড়া মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক মন্তব্য করেন যে, দেশের ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়ন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির স্বার্থে বিপিএলের মতো বড় আসরগুলোর প্রতি বছর নিয়মিত আয়োজন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানান, টুর্নামেন্টটি কেন এবার করা সম্ভব হচ্ছে না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ যাতে কোনো ব্যত্যয় ছাড়াই প্রতি বছর নিয়মিতভাবে মাঠে গড়ায়, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নজরদারি বজায় রাখা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপিএল দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক আসর। এই টুর্নামেন্ট নিয়মিত না হলে জাতীয় দলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ক্রিকেটাররা বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। ক্রিকেটপ্রেমী ও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ ও ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত কাটিয়ে ভবিষ্যতে ঘরোয়া ক্রিকেটের এই মেগা টুর্নামেন্টটি আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়মিতভাবে আয়োজিত হবে।
খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ