সৃজনশীল খাত ও কুটির শিল্পকে ঋণের আওতায় এনে উদ্যোক্তা তৈরির আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

সৃজনশীল খাত ও কুটির শিল্পকে ঋণের আওতায় এনে উদ্যোক্তা তৈরির আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রচলিত ব্যবসার পাশাপাশি সংগীত, চলচ্চিত্র, থিয়েটার এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পসহ সৃজনশীল খাতের প্রতিভাবানদের সহজ শর্তে ঋণ ও সার্বিক সহায়তার আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংক আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ অর্থায়ন তহবিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক খাতের অবদান প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছালেও বাংলাদেশে এই খাতের অবদান তুলনামূলক কম। সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের সৃজনশীল খাতের অবদান অন্তত ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বহু শিক্ষিত ও সৃজনশীল তরুণ অর্থের অভাবে এবং ব্যাংকিং খাতের জটিলতার কারণে তাদের মেধা ও প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারছেন না। এই নতুন তহবিলের মাধ্যমে সেই অন্তরায় দূর করে উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথ সুগম করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঋণ ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অনুদানের অর্থের তুলনায় ঋণভিত্তিক অর্থায়ন উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনিয়োগ সফল করার মানসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা তৈরি করে। ঋণগ্রহীতাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক নকশা প্রণয়ন, মানসম্মত কাঁচামাল নিশ্চিতকরণ, ব্র্যান্ডিং এবং বাজারজাতকরণে সমন্বিত সহায়তা প্রদানের ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যথাযথ নকশা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানের দেশীয় পণ্যের বাজারমূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রামীণ অর্থনীতির সম্ভাবনা সম্পর্কে আলোকপাত করে অর্থমন্ত্রী জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁতি, কাঁসাশিল্পী, মৃত্তিকাশিল্পীসহ ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলো একই কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ও অনলাইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাজারের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে তা রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারবে। এই তহবিল কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারের পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হলে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত কৃষি ও সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসার বাইরে সৃজনশীল ও ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের আওতায় আনা হলে দেশের সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। তবে এই তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর প্রশিক্ষণ ও বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ