রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

রাজনীতি ডেস্ক
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে গেলে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মৌলিক ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতেও সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বা জাতীয় সমঝোতা বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকের শুরুতে জাপানের বিশেষ দূত সময় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। বিগত প্রায় পাঁচ দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজের ওপর একটি বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি গভীরভাবে অবগত। পাশাপাশি, রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় জাপান সরকারের ধারাবাহিক অনুদান ও সহযোগিতার বিষয়গুলোও তিনি আলোচনায় তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ দূতকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান জাতীয় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল রাষ্ট্র, এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের ফলে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, অবকাঠামো এবং সামগ্রিক জনমিতিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি ও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এই জটিল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকার পাশাপাশি জাপানি বিশেষ দূতের প্রতি নিজের অবস্থান থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাপানের বিশেষ দূত জানান যে, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমার সরকার এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি প্রতীয়মান হয়েছেন। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তা সত্ত্বেও, সংকট সমাধানে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দৃঢ়ভাবে আশ্বস্ত করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কেবল দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে জাপান সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ দূত এই প্রস্তাবটি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দেন।
এ সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দেশে বর্তমান সরকার একটি পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও উন্নত করার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ