ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মটরিচ বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর যুদ্ধে যাওয়া উচিত এবং সেখানে তা-ই করা উচিত যা তারা গাজায় করেছিল।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ‘ওয়াইনেট নিউজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেজালেল স্মটরিচ বলেন, ‘ইসরায়েলের ‘জুডিয়া এবং সামারিয়া’য় (পশ্চিম তীর) যুদ্ধে যাওয়া দরকার, আমরা গাজায় যা করেছি সেখানেও তা-ই করা দরকার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে চূর্ণ-বিচূর্ণ বা ধ্বংস করে দেওয়া উচিত—যেটি একটি সন্ত্রাসী কর্তৃপক্ষ।’
দখলকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত উত্তেজনা মোকাবিলায় ইসরায়েলের কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে স্মটরিচ এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা সংক্রান্ত যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের সহিংসতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই বছরে তা তীব্রতর রূপ নিয়েছে।
বেজালেল স্মটরিচ ইসরায়েলি বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, আমাদের বলতে হবে, ঠিক যেমন আপনারা গাজায় হামাসকে চূর্ণ করেছেন, জুডিয়া এবং সামারিয়াতেও কোনো সন্ত্রাসী অবকাঠামো থাকবে না। কোনো সন্ত্রাসি থাকবে না, কোনো অস্ত্র থাকবে না, কোনো সুড়ঙ্গ বা টানেল থাকবে না।’
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা (ওসিএইচএ) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ দিক পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ১ হাজার ৩৩০টিরও বেশি বসতি স্থাপনকারী সংক্রান্ত হামলার ঘটনা রেকর্ড করেছে। এস ঘটনা ঘটেছে গড়ে দিনে ছয়টি। এই হার গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো প্রায়ই ইসরায়েলি সৈন্যদের সমর্থনে ফিলিস্তিনিদের ওপর নানাভাবে আক্রমণ চালায়। তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ঘেরাও করা, গুলিবর্ষণ, সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি। বিশেষজ্ঞরা এসব ঘটনাকে সুপরিকল্পিত গণহত্যা বা নির্যাতন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে, আক্রমণের সময় বসতি স্থাপনকারীরা সামরিক বাহিনীর সরবরাহ করা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং সামরিক পোশাক পরে থাকে—যা তাদের এবং সেনাদের মধ্যকার পার্থক্যকে ম্লান করে দেয়।
ইহুদিদের 'সুক্কোত' ধর্মীয় ছুটির কথা উল্লেখ করে দখলকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সামরিক অবরোধ বা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি মন্ত্রী বেজালেল স্মটরিচের এই মন্তব্য সামনে এলো। ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর এই কড়াকড়ি ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
এদিকে, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে রোববার ইসরায়েলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শত শত ইসরায়েলি আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে অবৈধভাবে প্রবেশ করে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী মসজিদ এলাকা ও জেরুজালেমের পুরানো শহরজুড়ে বিধিনিষেধ বাড়ানোর সাথে সাথে ওই ইসরায়েলিরা ‘মরক্কান গেট’ দিয়ে প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং তালমুদিক ধর্মানুষ্ঠান বা আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা করে।

