রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নারীদের প্রতি অসম্মানজনক চিন্তা ও ভাষা যাদের মধ্যে বিদ্যমান, তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসা উচিত নয়। তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় এমন মানসিকতার প্রতিফলন হলে তা গণতান্ত্রিক ও সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন সড়কে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সভায় আসন্ন নির্বাচন, সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং এলাকার নাগরিক সমস্যাগুলো তুলে ধরেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রাজনৈতিক জোটের শীর্ষ নেতার মন্তব্যকে ঘিরে এসব প্রতিবাদ সংগঠিত হয়েছে। তার ভাষায়, ওই মন্তব্যে নারীদের প্রতি অবমাননাকর শব্দচয়ন ব্যবহৃত হয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, এই প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করে যে নতুন প্রজন্ম রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে মূল্যবোধের প্রশ্নে সচেতন। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে তরুণদের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার মতে, আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং রাষ্ট্রের আদর্শিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি সুযোগ।
নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে দুটি ভিন্ন ধারার শক্তি সক্রিয় রয়েছে। একদিকে রয়েছে উদারপন্থি ও গণতান্ত্রিক শক্তি, অন্যদিকে রয়েছে উগ্র ডানপন্থি রাজনৈতিক ধারা। তিনি দাবি করেন, উগ্রপন্থি রাজনীতির উত্থান নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার সংকুচিত করতে পারে। এ কারণে ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় কিছু বক্তব্য ও প্রচারণা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তার মতে, ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন তোলা সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ভয়ভীতি বা হুমকির ভাষা দিয়ে জনগণের মনোবল ভাঙা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় অতীতেও সোচ্চার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে বলেন, দেশের জনগণ বারবার গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবস্থান নিয়েছে।
নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি নিয়মিতভাবে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন। তার ঘোষিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে প্রতি মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্মুক্ত সভা আয়োজন, যেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এসব সভায় নাগরিকরা সরাসরি তাদের সমস্যা ও প্রশ্ন উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র শুধু নির্দিষ্ট সময় পরপর ভোট দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়মিত জবাবদিহির আওতায় রাখাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
এলাকার গ্যাস সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি জাতীয় সমস্যা, যার পেছনে দীর্ঘদিন ধরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমের অভাব অন্যতম কারণ। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠিত হলে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান ও অবকাঠামোগত সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে অবৈধ সংযোগ বন্ধ, লিকেজ মেরামত ও পাইপলাইন সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নগর ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে তিনি ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার কথা বলেন। তবে এ ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানান। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে কিছু এলাকাকে ‘মার্কেট স্ট্রিট’ হিসেবে ব্যবহারের ধারণা আলোচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের নেত্রী অ্যাডভোকেট রুনা লায়লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।


