আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের মুখেও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। গতকাল শুক্রবার নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, দায় স্বীকার করলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দায়িত্ব ছেড়ে দেশকে বিশৃঙ্খলার মুখে ঠেলে দেবেন না। বরং আগামী সাধারণ নির্বাচনেও তিনি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে দুই বছর আগে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন স্টারমার। তবে এবারের স্থানীয় নির্বাচন ছিল তার সরকারের জন্য প্রথম বড় অগ্নিপরীক্ষা। জনমত জরিপের পূর্বাভাসকে সত্য প্রমাণ করে ভোট গণনার শুরুতেই ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে ওঠে। গতকাল সকাল পর্যন্ত ঘোষিত ১৩৬টি কাউন্সিলের মধ্যে ৪০টির ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অভিবাসনবিরোধী দল ‘রিফর্ম ইউকে’ বড় ধরনের উত্থান ঘটিয়েছে। নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন দলটি ইতোমধ্যে ৩৫০টিরও বেশি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। বিপরীতে লেবার পার্টি ২৪০টির বেশি আসন হারিয়েছে।
নির্বাচনী ফলাফলকে ‘ভীষণ কঠিন’ হিসেবে অভিহিত করে কিয়ার স্টারমার বলেন, সারা দেশে অনেক মেধাবী প্রতিনিধি হারানো অত্যন্ত কষ্টের এবং এর দায়ভার তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছেন। তবে পদত্যাগের দাবি নাকচ করে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নেতৃত্ব পরিবর্তন দেশের জন্য ইতিবাচক হবে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পার্লামেন্ট নির্বাচনেও লেবার পার্টি একই ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে, যা স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তুষ্টিই লেবার পার্টির এই ভরাডুবির প্রধান কারণ। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে-র অভাবনীয় সাফল্য যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্টারমার এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে সাধারণ নির্বাচনের আগে জনসমর্থন পুনরুদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


