অফিস–আদালতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে নীরব এলাকা ঘোষণা, হর্ন বাজালে শাস্তি

অফিস–আদালতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে নীরব এলাকা ঘোষণা, হর্ন বাজালে শাস্তি

রাজধানী ডেস্ক

অফিস, আদালত, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এ ধরনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের বিস্তৃত এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এসব এলাকায় যানবাহনের হর্ন বাজানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। নতুন বিধান অনুযায়ী, নীরব এলাকায় হর্ন বাজালে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ড, কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রোববার এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এর আলোকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহের আশপাশে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিধিমালার উদ্দেশ্য হলো জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মপরিবেশের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসাসেবার পরিবেশে অপ্রয়োজনীয় শব্দের ক্ষতিকর প্রভাব কমানো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় এই বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ ও চারপাশের সড়কসমূহ, পার্কিং এলাকা এবং সংলগ্ন পথগুলো এ কার্যক্রমের আওতায় থাকবে। নির্ধারিত তারিখ থেকে সচিবালয় এলাকায় বিধি লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড আরোপের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইনানুগ অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীতে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শব্দদূষণ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে অতিরিক্ত হর্নের শব্দ রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য মারাত্মক বিরক্তির কারণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ ও ঘুমের ব্যাঘাতসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত রয়েছে।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এ নীরব এলাকার সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি এসব এলাকায় কী ধরনের শব্দ নিষিদ্ধ থাকবে, তারও সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, নীরব এলাকায় অপ্রয়োজনীয় হর্ন, উচ্চ শব্দের যন্ত্রপাতি কিংবা শব্দবর্ধক ব্যবহার করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে শুধু যানবাহনের চালক নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

ডিএমপি বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি ও বেসরকারি সব যানবাহনের চালকদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা আইন মেনে সচিবালয় এলাকা ও অন্যান্য নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকেন। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নিয়মিত নজরদারি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে রাজধানীতে শব্দদূষণ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমানো সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সচিবালয় এলাকা নয়, ধাপে ধাপে রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও নীরব এলাকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে জনস্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ উদ্যোগ সফল করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ জনগণ ও চালকদের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

ডিএমপির এই সিদ্ধান্ত রাজধানীতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইন কার্যকর হওয়ার পর বাস্তব প্রয়োগ ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এর ফলাফল কীভাবে প্রতিফলিত হয়, সে দিকেই এখন সংশ্লিষ্ট মহল ও নগরবাসীর নজর।

রাজধানী শীর্ষ সংবাদ