মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট কমাচ্ছে এয়ার কানাডা

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট কমাচ্ছে এয়ার কানাডা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে উত্তর আমেরিকার বিমান পরিবহন খাতে। অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামলাতে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রগামী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে কানাডার পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ‘এয়ার কানাডা’। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি কিছু মৌসুমি রুট নির্ধারিত সময়ের আগেই স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পর বৈশ্বিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই আকস্মিক ব্যয়বৃদ্ধি বিমান পরিচালনার সামগ্রিক খরচকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু রুট পরিচালনা করা বর্তমানে ব্যবসায়িকভাবে লাভজনক নয়। বিশেষ করে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে টরন্টো ও মন্ট্রিয়াল থেকে পরিচালিত কিছু ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত রুটগুলোর তালিকায় রয়েছে ভ্যানকুভার-রালে, টরন্টো-স্যাক্রামেন্টো, টরন্টো-চার্লসটন এবং মন্ট্রিয়াল-অস্টিন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন এই ফ্লাইটগুলো নির্ধারিত সূচির আগেই বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বিকল্প ভ্রমণ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী রিফান্ডের ব্যবস্থা রাখা হবে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এয়ার কানাডা জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে পুনরায় এই রুটগুলোতে কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, জেট ফুয়েলের এই আকাশচুম্বী দামের প্রভাব শুধু বিমান ভাড়ায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি কানাডার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো যখন তাদের পরিচালন ব্যয় কমাতে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দেয়, তখন তা সরাসরি পর্যটন ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তবে এয়ার কানাডার এই সংকটের বিপরীতে কুইবেকের বিমান উৎপাদন শিল্পের জন্য একটি বড় সুসংবাদ এসেছে। এয়ারবাস কানাডা মালয়েশিয়ার স্বল্পমূল্যের এয়ারলাইন ‘এয়ার এশিয়া’র কাছ থেকে ১৫০টি এ২২০ মডেলের উড়োজাহাজের একটি বিশাল ক্রয়াদেশ লাভ করেছে। এটি এ২২০ বিমানের ইতিহাসে এককভাবে সবচেয়ে বড় নিশ্চিত অর্ডার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মন্ট্রিয়াল শহরের উত্তরে মিরাবেলে অবস্থিত অ্যাসেম্বলি লাইনে এই বিমানগুলো তৈরি করা হবে। বহু বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিটি কুইবেকের স্থানীয় অর্থনীতি এবং বিমান নির্মাণ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একদিকে জ্বালানি সংকটে ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হওয়া এবং অন্যদিকে বিশাল রপ্তানি কার্যাদেশ পাওয়া—কানাডার এভিয়েশন খাত বর্তমানে এক মিশ্র পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ