রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার কুমিল্লা-৪ ও কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের প্রার্থীতা আপিল বিভাগ বাতিল করেছে, ফলে উভয় আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
কুমিল্লা-৪ আসনের জন্য বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল ঋণখেলাপির অভিযোগের কারণে। মনোনয়ন বাতিলের পর মঞ্জুরুল আহসান হাইকোর্টে রিট করেন, যা ২১ জানুয়ারি খারিজ হয়। এরপর তিনি আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ আবেদন করেন, যা ১ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ খারিজ করেছে।
অপরদিকে, কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছিল দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে। তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন, যা ২২ জানুয়ারি সরাসরি খারিজ হয়। এরপর গফুর ভূঁইয়া আপিল বিভাগে আবেদন করলে সেটিও বাতিল করা হয়েছে। এই দুই সিদ্ধান্তের ফলে উভয় আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
এদিকে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি তাদের মিত্র দলগুলোকে মোট ৮টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ৪টি আসনে প্রার্থী পেয়েছে। এছাড়াও গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণ অধিকার পরিষদ এক একটি আসনে প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। এসব দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীরা বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। সিলেট-৫ আসনে দলের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক ‘খেজুরগাছ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী-১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মনির হোসেন কাসেমী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
অন্যদিকে, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে ‘মাথাল’ প্রতীকে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ঢাকা-১২ আসন থেকে ‘কোদাল’ প্রতীকে, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে এবং বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান ভোলা-১ আসন থেকে ‘গরুর গাড়ি’ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ফলস্বরূপ, আসন্ন নির্বাচনে মোট ১০টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকের কোনো প্রার্থী নেই, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতি কুমিল্লার দুটি আসন ছাড়াও অন্য নির্বাচনী অঞ্চলে ভোটের ফলাফলের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পর্যবেক্ষণ করছেন।


