রাজনীতি ডেস্ক
লক্ষ্মীপুর: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম রোববার লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট তোয়াহা স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীকে ইসলামের নামে দ্বিচারিতার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, মুখে ইসলামের কথা বলা হলেও জামায়াত বাস্তবে শরিয়াহ আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনার প্রতি আগ্রহী নয় এবং তারা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার পাশাপাশি বিদেশি প্রভাব ও গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চায়।
রেজাউল করীম আরও বলেন, জনগণ এসব ভাঁওতাবাজির রাজনীতি দেখতে চায় না এবং ইসলাম নিয়ে জামায়াতের আচরণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, “জামায়াতের মুখে এক কথা, অন্তরে অন্যটা। দ্বিচারিতা আচরণ কোনো ইসলামী দলের হতে পারে না।”
তিনি দেশ পরিচালনার প্রেক্ষাপটে ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, প্রচলিত নিয়মে দেশের পরিচালনার মাধ্যমে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি যুক্তি দেখান, “আমরা আমেরিকার ইনসাফ দেখেছি, আমরা ভারতের ইনসাফ দেখেছি। বাংলার মানুষ আর ওইসব ইনসাফ দেখতে চায় না।” তার বক্তব্যে বলা হয়, জামায়াত আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে তাদের ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায়।
রেজাউল করীম নির্বাচনী প্রার্থীর রাজনৈতিক লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতির দিকে মনোযোগ দিতে গিয়ে বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হলে ইসলামী আইন কার্যকর করা হবে এবং দেশের পরিবর্তনের জন্য ইসলাম, ন্যায়, সততা ও মানব কল্যাণের পক্ষে কাজ করা হবে।
জনসভায় তিনি কমলনগর-রামগতি আসনের প্রধান সমস্যা নদীভাঙন রোধে সরকারি বরাদ্দ শতভাগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানান। তিন হাজার একশ কোটি টাকার বরাদ্দের মাধ্যমে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ভুলুয়া নদী খননসহ স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং ভূমি খাতের দুর্নীতি বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া তিনি গ্রামীণ এলাকার জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষক ও জেলেদের কল্যাণে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা হাবিবুর রহমান মিসবাহ, জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ ও আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করীম আবরার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি অনারারি ক্যাপ্টেন (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহিম এবং সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দীনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতিত্ব করেন আসন্ন নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ। জনসভায় স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ও সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


