রাজনীতি ডেস্ক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলোরহাট বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় জামায়াতে ইসলামী দলের কার্যক্রম ও অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে চায় এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ফখরুল বলেন, নির্বাচনের সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করতে কিছু প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যেখানে ভোটের মাধ্যমে কোনো ফলাফলের বিষয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ভোটারদের সচেতন থাকা এবং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে ভোট প্রদানে অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও কিছু রাজনৈতিক দল স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন না করে বিরোধী অবস্থান নিয়েছিল। একই সঙ্গে ফখরুল বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও সনাতন ধর্মালম্বীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন এবং উল্লেখ করেন, ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নাগরিক ও ভোটারদের সচেতন থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
সভায় ফখরুল ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ভোটারদের কোনো প্রকার হুমকি বা ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ভোটারদের ভয় দেখানো বা হুমকি প্রদর্শন করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, তিনি নারী শিক্ষার ও শ্রমক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ফখরুল বলেন, নারীরা শিক্ষার মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হতে পারবে। তিনি বলেন, নারীর কার্যক্রম ও শিক্ষার ওপর কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা চলমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
সভায় বিএনপি মহাসচিব দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’-এর প্রতি ভোটারদের সমর্থনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদানের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মজবুত হবে এবং নাগরিকদের মতামত প্রতিফলিত হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের এই নির্বাচনী সভা স্থানীয় ভোটার ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। ফখরুলের বক্তব্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নাগরিক সচেতনতা এবং নারীর শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গঠিত ছিল।


