টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তে পাকিস্তান, আইসিসির সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তে পাকিস্তান, আইসিসির সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আলোচনা

খেলাধূলা ডেস্ক

আসন্ন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে এবং পিসিবির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

আইসিসি বোর্ড সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির বোর্ড সভায় পাকিস্তানের সিদ্ধান্তটি আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও পিসিবি এখনো লিখিতভাবে আইসিসিকে তাদের অবস্থান জানায়নি, তবে প্রকাশ্য ঘোষণার কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে আইসিসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা হবে কি না, সে বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

আইসিসির একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা আইসিসির সঙ্গে পিসিবির চুক্তিগত বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী হতে পারে। আইসিসি আয়োজিত কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে সূচি অনুযায়ী সব ম্যাচ খেলতে সম্মত থাকতে হয়। ব্যতিক্রম ঘটলে সেটিকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করার বিধান রয়েছে।

সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়ে আইসিসি বোর্ড সূত্র জানায়, পিসিবির বিরুদ্ধে একাধিক ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আইসিসির সদস্য দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের ক্ষেত্রে পাকিস্তান সফরে অনাগ্রহ প্রকাশ করা বা সফর বাতিলের সুযোগ তৈরি হওয়া। এছাড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ম্যাচের ফলাফল তিন ফরম্যাটে—টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে প্রভাব না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

আরও জানা গেছে, বিষয়টি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। শাস্তির আওতায় পাকিস্তান দলকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোর চুক্তিভঙ্গ বা টুর্নামেন্ট পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টির ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন কিংবা অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে।

পিসিবির পক্ষ থেকে এখনো আইসিসির সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বোর্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের পেছনের প্রেক্ষাপট নিয়েও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত একটি ম্যাচ না খেলার অনুরোধ জানিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। সে সময় আইসিসি ওই অনুরোধ গ্রহণ করেনি এবং টুর্নামেন্ট কাঠামো অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাদের ঘোষণায় জানিয়েছে, তারা ওই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের পথ বেছে নিয়েছে।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে একটি দলের ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত শুধু সংশ্লিষ্ট দলের জন্যই নয়, পুরো টুর্নামেন্টের সূচি, সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক চুক্তির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, এমন সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত করলে তা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

আইসিসি বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব। ওই বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে, পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্তের কারণে কী ধরনের প্রশাসনিক বা ক্রীড়াগত পরিণতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এবং আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলটির অংশগ্রহণ কোন অবস্থানে দাঁড়াবে।

খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ