রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, নারী সমাজের সম্মান, অধিকার ও ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই নারীরা বিএনপির প্রতি আস্থাশীল। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সেলিমা রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ নারী। নারী সমাজকে অবমূল্যায়ন করে কোনো রাষ্ট্র টেকসই উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে পারে না। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের সামাজিক ভূমিকা ও কর্মসংস্থান নিয়ে যেসব বক্তব্য ও মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে, সেগুলো উদ্বেগজনক। এ ধরনের বক্তব্য নারী সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি কোনো দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়; বরং নারী সমাজের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার দাবিতে একটি সামাজিক প্রতিবাদ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিবাদ জানাতেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সেলিমা রহমান বলেন, ইসলামের ইতিহাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নারীর সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর মতে, ধর্মের নামে নারীর অবস্থানকে সীমিত করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা ইসলামের মূল শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, এ ধরনের প্রবণতা সমাজকে পিছিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
বিএনপির নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে নীতিগত গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে নারীদের রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেলিমা রহমান বলেন, সে সময় গ্রামীণ নারীদের শিক্ষা ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, পরবর্তী সময়েও নারীরা সংসদ, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও বিভিন্ন পেশায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে নারীদের এই অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনে বহু নারী সম্মানের সঙ্গে বাইরে কাজ করছেন, যা সমাজ ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।
নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সেলিমা রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় নারীদের সমর্থন প্রত্যাশা করা এবং পরবর্তী সময়ে তাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, নারী ভোটারদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হওয়া উচিত। নারীদের মর্যাদা রক্ষা করা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নয়, বরং সামগ্রিক সামাজিক দায়িত্ব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বক্তব্য দেন। তাঁদের বক্তব্যে নারী সমাজের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয় এবং নারীদের অধিকার রক্ষায় সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নারী সমাজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মন্তব্য ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকেরা জানান, ভবিষ্যতেও নারী অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।


