প্রথম অধিবেশনে গণহত্যার বর্ণনা সংসদে তুলে ধরবেন রাষ্ট্রপতি

প্রথম অধিবেশনে গণহত্যার বর্ণনা সংসদে তুলে ধরবেন রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ প্রদান করেন। এ বছর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশনের শুরুতেই ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণে জুলাই গণহত্যার বর্ণনা সংসদে তুলে ধরবেন  এছাড়া রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের পরবর্তী নীতি, পরিকল্পনা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগসহ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণ সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাবের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়। সংসদ সদস্যরা ওই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য প্রদান করেন এবং অধিবেশনের শেষ দিনে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। যদিও রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন, এটি তিনি নিজে বা তার দপ্তর থেকে সরাসরি প্রস্তুত করেন না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ভাষণের খসড়া তৈরি করে এবং পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তা অনুমোদিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের রিপোর্ট শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রদান একটি বাধ্যতামূলক কার্যক্রম। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যেই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা ভাষণের খসড়া চূড়ান্ত করেছি এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান। এটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করা হবে।”

সংসদের জন্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রস্তুতির কাজ বেশ আগে থেকেই শুরু হয়। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে, প্রায় তিন মাস আগে ভাষণের খসড়া তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং এতে দেশের নীতিনির্ধারণী, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আগের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রায় ১৪৩ পৃষ্ঠার হয়েছিল। এ বছরের ত্রয়োদশ অধিবেশনের জন্য ভাষণ আনুমানিক দেড়শ পৃষ্ঠার হতে পারে।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি ভাষণের সব অংশ সংসদে পড়ে শোনাবেন না। তিনি ভাষণের মূল অংশ নির্বাচন করে পাঠ করবেন। বাকী অংশ স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে পঠিত হিসেবে গণ্য হবে। এই ভাষণে নতুন সরকারের নীতি-নির্ধারণ, নির্বাচনী প্রেক্ষাপট, প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ এবং সংসদীয় কার্যক্রমের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

এছাড়া রাষ্ট্রপতির ভাষণে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ, ভোট ও নির্বাচনের পর পরিস্থিতি, এবং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার ছিলেন।

বিগত দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ ৩০ জানুয়ারি প্রদান করেছিলেন। ওই ভাষণ মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এ বছরও অনুরূপ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ জাতীয় নীতিমালা, সংসদীয় অঙ্গীকার, এবং সরকারের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ সংসদের এই প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, প্রশাসনিক কার্যক্রম, এবং সরকারের লক্ষ্য ও নীতি সম্পর্কে সংক্ষেপে এবং বিস্তারিত তথ্যসমৃদ্ধভাবে সংবাদের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ