যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার: দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার: দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু

বাংলাদেশ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ১০ দিন পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এর আগে একই ঘটনায় নিখোঁজ অন্য শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস শুক্রবার (১ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ফ্লোরিডার সেন্ট পিটার্সবার্গ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বরাত দিয়ে দূতাবাস জানায়, আই-২৭৫ ও ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে মরদেহের খণ্ডিতাংশ উদ্ধার করার পর নিবিড় তদন্ত শুরু হয়। পরবর্তীতে ফ্লোরিডা পুলিশ বৃষ্টির পরিবারকে টেলিফোনে নিশ্চিত করে যে, উদ্ধারকৃত দ্বিতীয় মরদেহটি নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। বৃষ্টির পরিবার বর্তমানে মরদেহটি দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সমন্বয় করছে ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস।

অন্যদিকে, একই ঘটনায় প্রাণ হারানো জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২ মে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লিমনের মরদেহবাহী কফিনটি রওনা হবে। দুবাই হয়ে ৪ মে সোমবার বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। লিমনের মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যয়ভার ও দাপ্তরিক কাজগুলো সম্পন্ন করতে দূতাবাস সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

উল্লেখ্য, জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনেই উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি গবেষণারত ছিলেন। গত ২৪ এপ্রিল থেকে তারা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের দশ দিন পর স্থানীয় পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে লিমনের এবং পরবর্তীতে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে।

মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা দুর্ঘটনা জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিক সুরতহাল ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো নিখোঁজ ওই দুই শিক্ষার্থীর। তবে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত নিহতদের স্বজনদের মধ্যে এই ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, মরদেহগুলো হস্তান্তরের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর তারিখও দ্রুত জানানো হবে বলে আশ্বস্ত করেছে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। প্রবাসী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ