দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বজুড়ে বন্ধুহীন করার অপচেষ্টা চলছে। তবে দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের আস্থা রয়েছে এবং এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিল্প ও কর্মসংস্থানের আমূল পরিবর্তন আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিগত দিনের রাজনৈতিক পটভূমি ও বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ তারিখের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর একটি বিশেষ মহল নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং দেশকে একঘরে করে ফেলা। তিনি বলেন, “বিশ্ব দরবার দেখছে বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনে পরিচালিত। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। আমাদের চোখ-কান খোলা রেখে এই সুযোগগুলো গ্রহণ করতে হবে।”

জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই আন্দোলনে অন্তত ৭২ জন শ্রমিক শাহাদাত বরণ করেছেন। বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ প্রতিটি রাষ্ট্রীয় খাত পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ শিকার হয়েছেন সাধারণ মেহনতি মানুষ। ২০২৪ সালে জনগণের তীব্র গণ-আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে সেই শাসনের অবসান ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি এখন দেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি ও বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা সচল করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর নির্দেশনা দিয়েছি। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কারখানা চালু করে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।”

কৃষক ও শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃষক ও শ্রমিক ভালো থাকলে তবেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে। তিনি সরকারের ঘোষিত ‘৩১ দফা’ সংস্কার কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এই দফার মধ্যেই প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও দেশ মেরামতের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে। এরই মধ্যে কৃষি ঋণ মওকুফ এবং কৃষক কার্ড বিতরণের মতো প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এছাড়া কৃষিখাতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হয়েছে।

রাজধানীর হকারদের পুনর্বাসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘব প্রসঙ্গে তিনি জানান, যানজট নিরসনে হকার উচ্ছেদ করা হলেও তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেধাবীদের মূল্যায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো উদ্যোগগুলোও পুনরায় চালু করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের ‘শ্রমিক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে চান। তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে দেশ গড়ার শ্রমিক হিসেবে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় নয়াপল্টন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তার জন্য তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের রুখে দিতে শ্রমিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ