ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির নীতিমালা চূড়ান্ত, পাইলট বিতরণ শুরু হচ্ছে মার্চে

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির নীতিমালা চূড়ান্ত, পাইলট বিতরণ শুরু হচ্ছে মার্চে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করেছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির খসড়া নীতিমালা, যা দেশের দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য বাস্তবায়িত হবে। নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ছয় শ্রেণির পরিবার সুবিধা গ্রহণে অযোগ্য হবে এবং শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হবে। আগামী ১০ মার্চ পরীক্ষামূলকভাবে ১৪টি উপজেলায় কার্ড বিতরণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব পরিবার কার্ড পাবেন না, তাদের মধ্যে রয়েছেন: সরকারি পেনশনভোগী সদস্য থাকা পরিবার, সরকারি চাকরিজীবী থাকা পরিবার, বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী বা বড় ব্যবসার মালিক, ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক, এসি ব্যবহারের সুবিধা সম্পন্ন পরিবার, এবং উল্লেখযোগ্য বিলাসবহুল সম্পদের মালিক পরিবার। এই পরিবারগুলোকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী সদস্যসহ পরিবার, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী—যেমন হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এবং সর্বোচ্চ ০.৫০ একর জমির মালিক পরিবারকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। দারিদ্র্য ও সম্পদের মানদণ্ড বিবেচনায় পরিবারগুলোর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে ৬ হাজার ৫০০ পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে এবং প্রত্যেক পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবে। সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠানো হবে। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে।

পাইলট প্রকল্পের জন্য ২ কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার ৭৭ শতাংশ সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চার মাসের মধ্যে এই পাইলট প্রকল্প শেষ করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ২ কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিদ্যমান টিসিবি কার্ড ধীরে ধীরে ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ কাঠামোয় একীভূত করা হবে। একই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির সুবিধাও প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে সুবিধাভোগীর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

বর্তমানে দেশে ৯৫টির বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রকৃত দরিদ্র বাদ পড়ার অভিযোগ থাকায় নতুন কার্ডব্যবস্থার মাধ্যমে সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বাজেটের অপ্রত্যাশিত খাত ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকেই এই কর্মসূচির অর্থ জোগান দেওয়া হবে। মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত অর্থ ছাপিয়ে ব্যয় না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

পাইলট কার্যক্রমের জন্য বৈচিত্র্যময় এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। বস্তি, শিল্পাঞ্চল, পার্বত্য অঞ্চল এবং হাওরসহ মোট ১৩টি এলাকা বাছাই করা হয়েছে, যাতে ভৌগোলিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যের ভিত্তিতে কার্যকারিতা যাচাই করা যায়।

সরকারের ভাষ্য, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শন সামনে রেখে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটি একটি সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য রয়েছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ