শেয়ার বাজার ডেস্ক
দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার সূচকের বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কমলেও, অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনের চিত্রে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে উভয় বাজারেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর হারানোর ফলে সার্বিক সূচকে বড় পতন হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৮৫ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকও নিম্নমুখী ছিল। এর মধ্যে ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ‘ডিএসইএস’ ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৯ পয়েন্টে এবং শীর্ষস্থানীয় ৩০টি কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ‘ডিএসই-৩০’ সূচক ৩৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকের এই ধারাবাহিক পতনকে বাজারের সামগ্রিক মন্দাভাব এবং বড় মূলধনী শেয়ারগুলোর দরপতনকে দায়ী করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
সূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে সোমবার লেনদেনের গতিও ছিল মন্থর। দিনশেষে ডিএসইতে মোট ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট হাতবদল হয়েছে। এই লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা কম। এর আগের কার্যদিবসে ডিএসইতে ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল। লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার ঘর থেকে নেমে আসাকে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়া এবং সাইডলাইনে থাকার প্রবণতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
সোমবার ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর। দর হারানো কোম্পানির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ায় বাজারের এই পতন ত্বরান্বিত হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক চিত্রও ছিল নেতিবাচক। সিএসইর প্রধান মূল্যসূচক সিএএসপিআই সোমবার ১৬৭ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৮২ পয়েন্টে এসে দাঁড়িয়েছে। এদিন সিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩৯টির শেয়ারের দর বেড়েছে, ১৭৪টির দর কমেছে এবং ২৬টি কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
তবে ডিএসইর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সিএসইর লেনদেনের পরিমাণে। সোমবার সিএসইতে মোট ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৪৪ কোটি টাকা বেশি। এর আগের দিন সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেন বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
অর্থনৈতিক নানাবিধ চাপ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটের কারণে পুঁজিবাজারে এই ধরনের বড় পতন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নীতিগত সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


