জাতীয় ডেস্ক
আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্যপদ পূরণে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (২২ জুন) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ডিনস ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মামলার কারণে ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি ঝুলে রয়েছে। বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের পর আদালতের নজরে এসেছে এবং আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে এর আইনি সুরাহা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আইনি জটিলতা নিরসন সাপেক্ষে আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন করে ৫০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে।
জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ মোট ১১টি বোর্ডের যেসব বিষয়ের পাঠ্যক্রম ও বিষয়বস্তু একই, সেগুলোতেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে পরীক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সমতা আসবে।
মাদরাসা শিক্ষকদের বকেয়া বেতন ও বিগত সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ড. মিলন বলেন, ২০১৭ সালে গৃহীত ১০ কোটি টাকার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) প্রকল্প দীর্ঘ সময়েও শেষ না হওয়ায় এর ব্যয় বেড়ে ৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত না করেই ১৭ হাজার মাদরাসা শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় মে ও জুন মাসের বেতন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষকদের বেতনের জন্য প্রতি মাসে ৫০০ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হলেও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার অভাবে সঠিক হিসাব নিরূপণ করা হয়নি। বর্তমান সরকার তহবিলের অবশিষ্ট ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সব বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।
শিক্ষাক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দেশের জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষার বিস্তার এবং মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


