অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার কিছুটা আশ্বাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সচিবালয়ে সরকারি কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি জানিয়েছেন, কর্মচারীরা নবম পে স্কেল পাবেন, তবে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে কিছু সময় লাগবে। বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও উপসচিব মো. আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক এম এ হান্নানসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মচারী নেতারা। বৈঠকের পর এম এ হান্নান জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রী তাঁদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং তা বাস্তবায়নের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বরাতে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন, তাই ধীরে ধীরে পে স্কেল বাস্তবায়িত হবে। এখনই পুরো কার্যক্রম সম্ভব নয়।”
নবম পে স্কেলের প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনে জয়ী হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ লক্ষ্য নিয়ে গত ২৭ জুলাই ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠিত হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়, যা ২১ জানুয়ারি জমা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, নবম পে স্কেল কার্যকরের দাবিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংগঠনটির সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামোগত বৈষম্য নিরসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন পে স্কেল প্রণয়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে প্রণীত অষ্টম পে স্কেলে ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এর পর বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি, আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে স্কেল না হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষাব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে ছয় সদস্যের পরিবারের ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, বাস্তব বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি।
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সংগঠনটি নতুন কর্মসূচিও নির্ধারণ করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক ও প্রধানমন্ত্রীর নিকট দাবিপত্র উপস্থাপন, পাশাপাশি রমজান মাসজুড়ে বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রতিনিধি সমাবেশ, মতবিনিময় সভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা জানায়, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু না হলে ঈদুল ফিতরের পর ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


