যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী বৃষ্টির প্রথম জানাজা সম্পন্ন, মরদেহ দেশে আসছে শনিবার

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী বৃষ্টির প্রথম জানাজা সম্পন্ন, মরদেহ দেশে আসছে শনিবার

জাতীয় ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ২টায় টাম্পায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য এবং মিয়ামিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানাজা শেষে মরদেহ স্থানীয় একটি ফিউনারেল সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দূতাবাসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৯ মে শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহটি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই প্রক্রিয়া তদারকিতে ওয়াশিংটন দূতাবাস ও মিয়ামি কনস্যুলেট সার্বক্ষণিক সমন্বয় করছে।

এর আগে একই ঘটনায় নিহত অপর শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে দেশে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে সরকারি প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে আনার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বাংলাদেশ সরকার বহন করছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল ইউএসএফ-এর পিএইচডি গবেষক জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর তদন্তে নামে স্থানীয় পুলিশ। দীর্ঘ তল্লাশি শেষে গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর দুদিন পর ২৬ এপ্রিল পার্শ্ববর্তী একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয় খণ্ডিত দেহাবশেষ, যা ১ মে বৃষ্টির মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করে স্থানীয় প্রশাসন।

এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং আসামির কাছ থেকে একটি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং দেশের শিক্ষাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্বজনরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ