আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তেহরানে ধারাবাহিক বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে দেশটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। উভয় পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের রাডার ব্যবস্থায় শনাক্ত হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তবে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বা কোনো স্থাপনায় আঘাত হেনেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিক কোনো পরিসংখ্যান জানানো হয়নি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরাইলের প্রধান জনবহুল শহর তেল আবিব এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের কিছু সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা। হামলার সময় ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শোনা যায় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা এবং বিস্ফোরণের আলোর ঝলকানি দেখা গেছে, যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক বিমান হামলা। গত শনিবার থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলের বিমান হামলার অভিযোগ ওঠে। ইরানের সরকারি সূত্রগুলো দাবি করে, এসব হামলায় সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরান পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছিল, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে। মঙ্গলবারের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকে সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইসরাইলের বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—যার মধ্যে স্বল্প ও মধ্যপাল্লার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত—ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্রিয় রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরোক্ষ উত্তেজনা চলমান থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও সামরিক কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছে বিশ্ব। হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষতির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত পরিস্থিতির মূল্যায়ন সীমিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।


