আদম (আঃ) এর সিজদা প্রত্যাখ্যান ও ইবলীসের প্রতিশ্রুতি: বনি ইসরাঈল সুরা ৬১-৬২

আদম (আঃ) এর সিজদা প্রত্যাখ্যান ও ইবলীসের প্রতিশ্রুতি: বনি ইসরাঈল সুরা ৬১-৬২

ধর্ম ডেস্ক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার খান মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে একটি নারী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, তিনি সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ডিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে সুরাহা চেয়েও কোন প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা পাননি। পরে তিনি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে ২০২০ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ওই নারী ডিবি কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে ২০২৩ সালে তিনি নিজ জেলা থেকে ঢাকায় এসে মাহমুদুলের সঙ্গে দেখা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কক্সবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলে রাতযাপনকালে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কিছুদিন পর ২০২৫ সালের ১ এপ্রিল রাজধানীর চকবাজারের হরনাথ ঘোষ রোডে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেন মাহমুদুল। ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করলেও তিন মাস পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাহমুদুল বারবার এড়িয়ে যান। ২০২৫ সালের ১ জুলাই বিয়ে করার কথায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিয়ে না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ২৪ জুলাই চকবাজার থানায় অভিযোগ করেন। ওই ঘটনার মধ্যস্থতায় ২৭ জুলাই স্থানীয় কাজি অফিসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলেও মাহমুদুল অফিস থেকে পালিয়ে যান। এরপর তিনি ফোন ও ফেসবুকের মাধ্যমে নারীকে ব্লক করে দেন এবং সংসার করার অস্বীকৃতি জানান।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, সম্পর্কের পর ও বিয়ের নাটকের মাধ্যমে মাহমুদুল তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালান। বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ধর্ষণ মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নাটক সাজানো হয়। নারী অভিযোগে উল্লেখ করেন, এই ঘটনাগুলোর কারণে তিনি নিরাপত্তা ও জীবনের সুরক্ষার জন্য ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট ডিএমপি কমিশনার বরাবর অভিযোগ করেন। কোনও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি ১৯ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে তার আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তার আইনজীবী ইমরান হোসেন অভিযোগকারীর অতীত বিবাহের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, নারী তাঁর একাধিক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন এবং নিজের পূর্ববর্তী বিয়ের তথ্য গোপন রেখেছিলেন। এ ঘটনায় মাহমুদুল হাসান ঢাকার সিএমএম কোর্টে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে আইন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তার বিষয়টি প্রথমিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও প্রমাণ সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিট দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।

এই ঘটনার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা এবং নারীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুনে কীভাবে প্রশাসনিক পদে থাকা কর্মকর্তার আচরণ প্রভাব ফেলে, তা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ পেয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ধর্ম শীর্ষ সংবাদ