আন্তর্জাতিক ডেস্ক
স্পেন ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তার সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি, ফলে সেখান থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর তথ্যে দেখা গেছে, স্পেনে অবস্থিত রোটা ও মোরন বিমানঘাঁটি থেকে এসব যুদ্ধবিমান অন্য ঘাঁটিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানে হামলার জন্য স্পেনের কোনো সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার হবে না। তিনি বলেন, দেশটির ঘাঁটিগুলো এই অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে না এবং জাতিসংঘের সনদ বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাইরে কোনো কাজে এগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই অবস্থানের কারণে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে তার ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালানোর হুমকি দিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের শত্রুরা বিশ্বের কোথাও নিরাপদ থাকবে না, এমনকি নিজেদের ঘরের ভেতরও নয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের ক্ষয়ক্ষতি ইরানকে দুর্বল করেনি; বরং দেশটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)-এর বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্পেনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সমর্থন ব্যালান্সের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নির্দেশ করছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়া, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামরিক পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করতে পারে।
মার্কিন যুদ্ধবিমান সরানোর এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কৌশলগত স্থিতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ইরানের পাল্টা হুমকি এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি, অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের দেশগুলোও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে সরাসরি সহযোগিতা বা সহায়তার সীমা নির্ধারণে আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করতে পারে।


