দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা পার্বত্যমন্ত্রীর

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা পার্বত্যমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

দুর্নীতি ও অসাংগঠনিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ দখলদারিত্ব বা অনিয়মে যুক্ত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। বুধবার (৪ মার্চ) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের এনেক্স ভবনে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় মন্ত্রী বলেন, গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সভা-সমিতি ও সংগঠন দখলের ঘটনায় তার দলের নাম এসেছে—এ বিষয়টি তিনি অস্বীকার করছেন না। তবে অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কোনো অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হলে তা দলীয় কিংবা দলের বাইরের যেই হোক, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

দীপেন দেওয়ান বলেন, ক্ষমতায় থাকা মানে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। এ প্রেক্ষাপটে দুর্নীতির প্রশ্নে দল ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে। তিনি জানান, দলীয় কর্মী বা নেতা—যেই হোক, দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল বা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। এ প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীর বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সম্প্রীতি, প্রশাসনিক ভারসাম্য ও রাজনৈতিক সহাবস্থানের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হওয়ায় এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন সচেতন মহল।

মতবিনিময় সভায় পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কেবল দেশীয় পর্যটকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিদেশি পর্যটক বাড়াতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান তিনি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় জীবনধারার কারণে পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময়। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগের সমস্যা এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব পর্যটন খাতের বিকাশে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পর্যটনকেন্দ্রিক এলাকায় পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, টেকসই পর্যটন উন্নয়নের জন্য স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমানভাবে জরুরি।

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব কংকন চাকমা, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন তালুকদার দীপু এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

সামগ্রিকভাবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং পার্বত্য অঞ্চলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রীর এ বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, ঘোষিত নীতির কার্যকর বাস্তবায়নই এ অবস্থানের প্রকৃত পরীক্ষার ক্ষেত্র হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ